কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬ এ ১১:২১ AM
কন্টেন্ট: পাতা
এক নজরে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ
পটভূমিঃ
অতি প্রাচীন পলিমাটি বিস্তৃত বরেন্দ্র ভূমির উৎপত্তি প্রায় বিশ লক্ষ বছর আগে। পূর্বে আত্রাই, তিস্তা ও করোতোয়ার পলি অঞ্চল আর পশ্চিমে পূণর্ভবা, মহানন্দা ও পদ্মার মধ্যবর্তী ভূ-ভাগের নুন্যতম সাড়ে আট হাজার বর্গমাইল এলাকা জুড়ে বরেন্দ্র ভূমির বিস্তৃতি। এলাকা ভিত্তিক বললে বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগের রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার অধিকাংশ এলাকা এবং নাটোরসহ বৃহত্তর রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া ও পাবনা জেলার কিয়দংশ এলাকা এবং ভারতের উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদা জেলার অধিকাংশ এলাকা নিয়ে বরেন্দ্র অঞ্চল গঠিত। বাংলাদেশে এর আয়তন প্রায় 8720 বর্গ কি.মি.।
১৯৮৫ সালের পূর্বে উত্তর অঞ্চলের এই বরেন্দ্র এলাকা ছিল লাল কংকরময় মাটির উঁচু নীচু টিলা, ছায়াহীন এক রুক্ষ প্রান্তর। ছিল রোদে পোড়া বিরান ফসলের মাঠ। দেখা যেত দূরে দুরে তালগাছ এবং মাঝে মাঝে বাবলা আর ক্যাকটাসের বেড়া। এই হলো আমাদের বরেন্দ্র ভূমি। তবে ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় প্রাচীনকালে বরেন্দ্র ভূমির চিত্র ভিন্ন ছিল। খ্রিষ্টপূর্ব 300 অব্দ থেকে শুরু করে বৌদ্ধ ধর্ম ও কৃষ্টির প্রসারকালে এ অঞ্চল কৃষি ও শিল্প সমৃদ্ধ এলাকা হিসাবে পরিচিত ছিল। এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশও সে সময় বেশ চমৎকার ছিল। নেলসনের (1923) মতে বরেন্দ্র অঞ্চল জঙ্গলে পরিপূর্ণ ছিল। উইলিয়াম হান্টারের (1876) বর্ণনা মতে বাংলার প্রায় সব ধরণের গাছই এ অঞ্চলে পাওয়া যেত। আম, জাম, তেঁতুল, তাল, খেজুর, বট, পাইকড়, শিমুল, বাবলা, বরই, বাঁশ, বেতসহ অসংখ্য লতা গুল্মের প্রাচুর্য ছিল এ বরেন্দ্র ভূমিতে। কিন্তু বৃটিশ শাসনামলের সময় লোকসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে কৃষি জমির সম্প্রসারণ, বসতবাড়ী স্থাপন, শিল্পে কাঁচামালের যোগান, আসবাবপত্র ও গৃহনির্মাণ সামগ্রী, জ্বালানী হিসাবে কাঠের ব্যাপক ব্যবহার, রাস্তা, বাঁধ ইত্যাদি অবকাঠামো নির্মাণের কারণে ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়েছে এ এলাকার বনভূমি। মূলত ঐ সময় থেকেই এ অঞ্চলে মরূকরণ প্রক্রিয়ার শুরু হয়।
পরিবেশের স্বাভাবিক নিয়মে এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যায়। দেশের বাৎসরিক গড় বৃষ্টিপাত যেখানে 2500 মি.মি. সেখানে এ অঞ্চলে তা 1400 মি.মি. এর বেশী নয়। ভাটির দেশ হওয়ায় উজানের দেশ থেকে নেমে আসা প্রায় সকল নদীতে বাঁধ নির্মাণ করায় অধিকাংশ নদীই (মহানন্দা, আত্রাই, পূর্ণভবা, শিব, পাগলা, করোতোয়া, তিস্তা) শুকনো মৌসুমে প্রায়ই শুকিয়ে যায়। এছাড়াও নদী বা খালে পানির প্রবাহ না থাকায় এবং কমে যাওয়ায় পলি জমে অধিকাংশ নদী-নালা, খাল-বিল ভরাট হয়ে পর্যাপ্ত পানি ধারণ ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলে। ফলে এ অঞ্চলে ভূ-পরিস্থ পানির উৎসও খুবই অপ্রতুল হয়ে পড়ে। এ অঞ্চলের জমিগুলো ছিল তাই বৃষ্টি নির্ভর একফসলী। যথা সময়ে বৃষ্টিপাত না হলে একটি ফসল উৎপাদনও ব্যহত হতো। বৃষ্টি নির্ভর বোনা আমন ফসলের পর বছরের বাকী সময় জমিগুলো গোচারণভূমি হিসাবে ব্যবহৃত হতো। দীর্ঘ কাদাস্তর ভেদ করে মাটির গভীর থেকে ভূ-গর্ভস্থ পানির উত্তোলনও সহজ ছিল না। তাই সেচ কার্যক্রমতো দুরের কথা এলাকাবাসী খাবার পানিসহ গৃহস্থালীর নানা কাজে পুকুর, খাল বিলের পানি ব্যবহার করতো। ঠিকভাবে ফসল উৎপাদন না হওয়ায় এ এলাকার জনসাধারণ অত্যন্ত দরিদ্র ছিল। তাই কাজের সন্ধানে/অন্নেশ্বণে এখানকার জনসাধারণ নিয়মিত অন্যত্র গমন করতো।
মাটির গঠন এবং ভূ-গর্ভস্থ পানি স্তরের স্বল্পতার কারণে এ অঞ্চলে প্রচলিত গভীর নলকূপ দ্বারা সেচ কাজ সম্ভব ছিল না। সে প্রেক্ষিতে 1985 সালে এ অঞ্চলের তৎকালীন বিএডিসি’র প্রকৌশলীগণ এক বিশেষ ধরণের গভীর নলকূপ উদ্ভাবন করে ভূ-গর্ভস্থ পানি দ্বারা সেচের সুযোগ সৃষ্টি করেন। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (BADC) এর আওতায় বরেন্দ্র সমন্বিত এলাকা উন্নয়ন প্রকল্প (BIADP) এর মাধ্যমে এ অঞ্চলে উন্নয়নের যাত্রা শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে এ প্রকল্পের মাধ্যমে রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলার ১৫ টি উপজেলায় কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। গভীর নলকূপ স্থাপন ও পুকুর-খাল খননের মাধ্যমে সেচ সুবিধা সৃষ্টি করা, বৃক্ষরোপনের মাধ্যমে মরু প্রক্রিয়া রোধ করা এবং উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করা ও যাতায়াতের জন্য ফিডার রোড নির্মাণ করা ছিল এ প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ ও উদ্দেশ্য। সময়ের স্বলপতা, অর্থায়নের প্রতিকুলতাসহ নানাবিধ প্রশাসনিক জটিলতায় প্রকল্পের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয় কিন্তু অল্প সংখ্যক হলেও উল্লেখিত কার্যক্রম সমূহ এ এলাকার মানুষের মনে বিরাট আশার আলো জাগায়। বরেন্দ্র এলাকার বিরান ভূমিতে সোনালী ফসলের অপার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। সেই সম্ভাবনাকে বাস্তব রূপ দিতে পরবর্তীতে সমগ্র বরেন্দ্র এলাকার উন্নয়নের জন্য ১৯৯২ সালের ১৫ জানুয়ারী রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলার সকল (২৫টি) উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) নামে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আলাদা একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করা হয়। নিম্ন লিখিত বোর্ড দ্বারা প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করা হতোঃ
ক) রাজশাহী বিভাগের কমিশনার, পদাধিকার বলে, যিনি কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানও হইবেন; (ভিন্ন চেয়ারম্যান নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত)
খ) কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক পদাধিকার বলে;
গ) কৃষি মন্ত্রী কর্তৃক মনোনীত তিনজন সদস্য:
ঘ) কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব কর্তৃক মনোনীত একজন সরকারী সদস্য
ঙ) ডেপুটি ইনসপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, পদাধিকার বলে;
চ) বরেন্দ্র প্রকল্প এলাকা যে সকল জেলা প্রশাসকের প্রশাসনিক আওতাধীনে অবস্থিত সে সকল জেলা প্রশাসক, পদাধিকার বলে।
এছাড়া বরেন্দ্র প্রকল্প এলাকা যে সকল সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকাভুক্ত সেসকল মাননীয় সংসদ সদস্য পদাধিকার বলে কর্তৃপক্ষের উপদেষ্টা ছিলেন।
বিএমডিএ কর্তৃক বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণের ফলে বরেন্দ্র এলাকার কৃষি, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পরিবেশের উন্নয়নসহ জনগণের আর্থ-সামাজিক অবস্থার ব্যপক উন্নয়ন সাধিত হয়। এখন আর জনসাধারণকে কাজের সন্ধানে অন্যত্র গমন করতে হয়না।
বিএমডিএ’র কার্যক্রমের সাফল্যের কারণে পরবর্তীতে (2003 সালে) ‘‘উত্তর বাংলাদেশ গভীর নলকূপ প্রকল্প’’ এর আওতায় স্থাপিত পানি উন্নয়ন বোর্ড এর ১২১৭টি অকেজো গভীর নলকূপ গ্রহন ও সচলকরণের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও পঞ্চগড় জেলায় বিএমডিএ এর কার্যত্রম সম্প্রসারিত হয়। সাফল্যের ধরাবাহিকতায় পরবর্তীতে/200৪ সাল থেকে বিএডিসি’র অচালূ গভীর নলকূপ গ্রহণ ও সচলকরণের মধ্যে দিয়ে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সকল জেলাতেই কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম বিস্তার লাভ করে।
কর্তৃপক্ষের রূপকল্প (Vision) :
বরেন্দ্র এলাকার উন্নত কৃষি ও কৃষি পরিবেশ।
কর্তৃপক্ষের অভিলক্ষ্য (Mission) :
সেচ অবকাঠামো উন্নয়নসহ সেচ এলাকা ও আবাদী জমি সম্প্রসারণ, মান সম্পন্ন বীজ উৎপাদন ও বিপণন এবং পরিবেশ উন্নয়নে ফলদসহ অন্যান্য বৃক্ষ রোপণ।
কর্তৃপক্ষের লক্ষ্যঃ
১) বরেন্দ্র অঞ্চলকে বাংলাদেশের শস্যভান্ডারে রুপান্তর।
২) মরুময়তা রোধকল্পে ব্যাপক বনায়ন এবংসম্পূরক সেচের জন্য খাল ও দিঘী পুনঃখনন।
৩) গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে কৃষি পণ্য বাজারজাতকরণ।
৪) জনসাধারণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন।
কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্য ও কার্যাবলীঃ
১) সেচ কার্যের উদ্দেশ্যে ভূ-পরিস্থ ও ভূ-গর্ভস্থ পানি সম্পদের উন্নয়ন এবং যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ;
২) কৃষি যান্ত্রিকিকরণ, বীজ উৎপাদন ও সরবরাহ এবং শস্যের বহুমুখীকরণ;
৩) পরিবেশের ভাসাম্য রক্ষার্থে বৃক্ষ রোপণ ও সংরক্ষণ;
৪) কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে সীমিত আকারে সংযোগ সড়ক নির্মাণ ও রক্ষাবেক্ষণ;
৫) সেচযন্ত্র স্থাপন এবং লোকালয়ে বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহকরণ;
৬) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে চুক্তি সম্পাদন;
৭) গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রদান।
বর্তমানে ২০১৮ সালে জারীকৃত "বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৮" এর মাধ্যমে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬টি (সকল) জেলাকেই বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধিক্ষেত্র হিসাবে ঘোষণা করা হয়। উক্ত আইন অনুসারে কর্তৃপক্ষের মাননীয় চেয়ারম্যান মহোদয়কে চেয়ারম্যান ও মাননীয় নির্বাহী পরিচালক মহোদয়কে সদস্য-সচিব করে 1৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি পরিচালনা বোর্ড গঠন করা হয়েছে।
বিএমডিএ’র পরিচালনা বোর্ড
| ১। | চেয়ারম্যান (সরকার কর্তৃক নিয়োগকৃত) | চেয়ারম্যান |
| ২। | মন্ত্রি পরিষদ বিভাগ কর্তৃক মনোনীত প্রতিনিধি (অনূন্য উপসচিব মর্যাদা) | সদস্য |
| ৩। | পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত প্রতিনিধি (অনূন্য উপসচিব মর্যাদা) | সদস্য |
| ৪। | মৎস ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত প্রতিনিধি (অনূন্য উপসচিব মর্যাদা) | সদস্য |
| ৫। | কৃষি মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত প্রতিনিধি (অনূন্য উপসচিব মর্যাদা) | সদস্য |
| ৬। | রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার কর্তৃক মনোনীত রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের একজন করে জেলা প্রশাসক | সদস্য |
| ৭। | রাজশাহী ও রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি কর্তৃক মনোনীত রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের একজন করে পুলিশ সুপার | সদস্য |
| ৮। | বিএমডিএ’র জ্যেষ্ঠতম প্রকৌশলী | সদস্য |
| ৯। | সরকার কর্তৃক মনোনীত সংশ্লিষ্ট কাজে অভিজ্ঞ ৩ জন প্রতিনিধি, যাদের মধ্যে একজন মহিলা হইবেন | সদস্য |
| ১০। | নির্বাহী পরিচালক, বিএমডিএ | সদস্য সচিব |
এছাড়াও আইন মোতাবেক মাননীয় কৃষি মন্ত্রীকে সভাপতি করে প্রতিমন্ত্রী, বরেন্দ্র এলাকার সকল সংসদ সদস্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিএডিসি, বিএমডিএ ও বিএআরসি’র চেয়ারম্যান, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, কৃষি সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও নির্বাহী প্রধানগণ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক সমন্বয়ে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হয়েছে।
বিএমডিএ’র উপদেষ্টা পরিষদ
| ১। | মাননীয় মন্ত্রী, কৃষি মন্ত্রণালয় | চেয়ারম্যান |
| ২। | মাননীয় প্রতিমন্ত্রী বা উপ-মন্ত্রী, কৃষি মন্ত্রণালয় (যদি থাকেন) | সহ সভাপতি |
| ৩। | বরেন্দ্র এলাকাধীন সকল সংসদ সদস্য | সদস্য |
| ৪। | সচিব, কৃষি মন্ত্রণালয়; সচিব, অর্থ বিভাগ; সচিব, পনি সম্পদ মন্ত্রণালয়; সচিব, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়; সচিব, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং সচিব, মৎস ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয় | সদস্য |
| ৫। | চেয়ারম্যান, বিএডিসি | সদস্য |
| ৬। | চেয়ারম্যান, বিএমডিএ | সদস্য |
| ৭। | নির্বাহী চেয়ারম্যান, বিএআরসি | সদস্য |
| ৮। | বিভাগী কমিশনার, রাজশাহী ও রংপুর | সদস্য |
| ৯। | মহাপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর; মহাপরিচালক, পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, বগুড়া এবং মহাপরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর | সদস্য |
| ১০। | রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিষয়ের একজন অধ্যাপক | সদস্য |
| ১1। | নির্বাহী পরিচালক, বিএমডিএ | সদস্য সচিব |
কৃষির উন্নয়নের ক্ষেত্রে অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান হিসাবে বিএমডিএ বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকদের সেচ সুবিধা প্রদান করে খাদ্যেৎপাদন বৃদ্ধি করতঃ বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরনে গূরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করাসহ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে সহায়তা করছে। এক সময়ের ঠাঁঠাঁ, মরুময় বরেন্দ্র অঞ্চল বিএমডিএ’র গৃহীত কার্যক্রমের মাধ্যমে আজ সুজলা-সুফলা শস্য-শ্যমলায় পরিণত হয়েছে। কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বর্তমানে অত্র অঞ্চলে যে ফসল উৎপাদিত হয় যা উত্তরাঞ্চলের মানুষের চাহিদা পুরণের পাশাপাশি সারা বাংলাদেশের চাহিদা পুরণ করে থাকে। বর্তমানে সারা বিশ্বে ধান উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান ৪র্থ। অর্থাৎ বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তায় বিএমডিএ’ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।
এক নজরে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অর্জন :
কার্যক্রম | বাস্তবায়ন |
| - গভীর নলকূপ স্থাপন (টি) |
|
| - এলএলপি স্থাপন (সৌরচালিত+ বিদ্যুতায়িত) (টি) | (501+৫৭৯) 1079 |
| - সেচের পানি বিতরণ ব্যবস্থা নির্মান (কি.মি.) | ১৫৩৫১.৭৮ |
| - সেচ নালা বর্ধিতকরণ (কি.মি.) | ২০৭৫.৭০ |
- খাল পুনঃ খনন (কি.মি.) | 2658.82 |
- খাস মজা পুকুর পুনঃ (টি) | 5553 |
- ক্রসড্যাম নির্মান (টি) | 801 |
| - সৌর শক্তি চালিত পাতকূয়া খনন (টি) | 670 |
| - পাকা সড়ক নির্মান (কি.মি.) | 1144 |
| - গভীর নলকূপ হতে গ্রামে পানীয় জল সরবরাহ পাইপ লাইন (টি) | ১৫৯২ |
| - ফুট ওভার ব্রীজ নির্মান (টি) | 54 |
| - ক্যটেল ক্রস কালভার্ট নির্মান (টি) | 109 |
| - কালভার্ট নির্মান (টি) | 8 |
- বনায়ন (বৃক্ষরোপন) (লক্ষ) | 270.74 |
- কৃষক প্রশিক্ষন (জন) | 15৮৩32 |
- ২০০৪-২৫ সনে ব্যবহৃত সেচযন্ত্র (টি) | গভীর নলকুপ- 15৫৬০ + এলএলপি- ৯৯১ |
- ২০২৪-২৫ সনে সেচকৃত জমির পরিমান (হেক্টর) | আউশ-0.৮১+ আমন-3.৫7 + রবি-৬.২৯ |
- ২০২৪-২৫ সনে আদায়কৃত সেচ চার্জ (লক্ষ টাকায়) | ২৩৪৫৫.২৭ |
- ২০২৫-২৬ সনে ব্যবহৃত সেচযন্ত্র (টি) | গভীর নলকুপ-12782 + এলএলপি- ৬৮৩ |
- ২০২৫-২৬ সনে সেচকৃত জমির পরিমান (হেক্টর) | আউশ-0.১৪+ আমন-3.৩১ |
- ২০২৫-২৬ সনে আদায়কৃত সেচচার্জ (লক্ষ টাকায়) | ১৯২৪.৮২ |
- ফসলের নিবিড়তা (%) | প্রকল্প গ্রহণের পূর্বে 117 এবং বর্তমানে 240 |
গভীর নলকূপ পরিচালনা ও সেচ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিঃ
খরা প্রবন বরেন্দ্র এলাকায় পানির অভাবে যখন ফসল উৎপাদন অসম্ভব ছিল তখন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এ এলাকায় প্রথম সেচের সুযোগ সৃষ্টি হয়। প্রথম দিকে স্থাপিত গভীর নলকূপগুলো ডিজেলের মাধ্যমে পরিচালনা করা হতো। পরবর্তীতে জমিতে নিরোবিচ্ছিন্ন সেচ প্রদানের লক্ষ্যে স্থাপিত সকল গভীর নলকূপগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হয়। বর্তমানে স্থাপিত সকল গভীর নলকূপগুলো বিদ্যুতের মাধ্যমে পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া সেচ কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করার লক্ষ্যে খাল, দীঘি, বিল ও পুকুর এবং নদীর পাড়ে মোট ১০79টি এলএলপি (লো লিফট পাম্প) স্থাপন করে সংশ্লিষ্ট এলাকার জমিতে সেচ প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জুন, ২০২৫ এ ‡gvU ১৫৫৬০টি গভীর নলকূপ ও ৯৯১টি এলএলপি (সর্বমোট ১৬৫৫১টি সেচযন্ত্র) ব্যবহার করে প্রায় ৬ লক্ষ ২৮ হাজার ৫৬৭ হেক্টর জমিতে সেচ প্রদান করা হয়েছে। এর ফলে প্রায় ৭০.৬০ লক্ষ মেট্রিক টন ফসল উৎপাদন করা হয়েছে এবং উপকারভোগী কৃষকের সংখ্যা প্রায় ১১.৬২ লক্ষ।
সেচ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি বিএমডিএ এর অহংকার। এই পদ্ধতি শুধু বাংলাদেশেই নয় এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশেও একটা মডেল হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে। বিএমডিএ কর্তৃক প্রথমে চুক্তিভিত্তিতে গভীর নলকূপগুলো পরিচালনা করা হতো। পরবর্তীতে কুপন পদ্ধতিতে সেচ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সেখানে ৫ টাকা, ১০ টাকা, ৫০ টাকা, ৭৫ টাকা, ৯০ টাকা, ১০০ টাকা ও ৫০০ টাকা মূল্যের কূপন ব্যবহার হতো। কূপনগুলো দেশের বিজি প্রেসে একটি বিশেষ ধরণের কাগজে ছাপানো হতো। কূপন পদ্ধতিতে কিছু সমস্যা পরিলক্ষিত হওয়ায় এবং সেচ প্রদান পদ্ধতি ডিজিটাইজ করার লক্ষ্যে প্রি-পেইড মিটারিং প্রথা চালু করা হয়। প্রি-পেইড মিটার পদ্ধতিতে পাম্পঘরে প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করা হয়। কৃষক তার কার্ডে পরিমানমত টাকা রিচার্জ করে পাম্পঘরে প্রি-পেইড মিটারে প্রবেশ করিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তার প্রয়োজনমত জমিতে সেচ গ্রহণ করে। সেচ গ্রহণ শেষ হলে কৃষক মিটার থেকে কার্ডটি বের করে পাম্প বন্ধ করে। এই পদ্ধতিতে কৃষকগণ পরিমিত ব্যয়ে সেচ প্রদান করে থাকে এবং সেচের পানির অপচয়ও হয় না। বর্তমানে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক স্থাপিত সকল সেচযন্ত্র প্রি-পেইড মিটার পদ্ধতিতে পরিচালনা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের সেচ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে বিগত ২১ সেপ্টেম্বর ২০০৮ তারিখে কর্তৃপক্ষের ৬২তম বোর্ড সভায় “বিএমডিএ সেচ নীতিমালা-২০০৮” অনুমোদিত হয়।
সেচের পানি বিতরণ ব্যবস্থাঃ
জমিতে সেচের পানি সরবরাহের লক্ষ্যে প্রাথিমিক অবস্থায় মাটির কাঁচা নালা ব্যবহার করা হতো। এতে করে দূরবর্তী জমিতে সেচের পানি সরবরাহ করতে অনেক সময় লাগত, পানির অপচয় হতো, কৃষি জমি নষ্ট হতো এবং কৃষকের সেচ খরচ বেশী হতো। পরবর্তীতে এই অসুবিধা দূর করার জন্য ইটের তৈরী পাকা নালা নির্মাণ করে পানি সরবরাহ করার ব্যবস্থা চালু করা হয়। এক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে পানির অপচয় কম হলেও কৃষি জমি নষ্ট এবং সেচ খরচ তেমনটি হ্রাস করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে সেচ খরচ কমানোসহ সেচের পানির অপচয় রোধ ও কৃষি জমি সাশ্রয়ের লক্ষে ২০০০ সাল হতে ভূ-উপরিস্থ সেচনালার পরিবর্তে ভূ-গর্ভস্থ সেচনালার মাধ্যমে জমিতে সেচ প্রদানের কাh©¨ক্রম শুরু করা হয়। প্রয়োজনের তুলনায় কম পরিমান হলেও বর্তমানে বিএমডিএ’র শতভাগ সেচযন্ত্রে ভূ-গর্ভস্থ সেচনালা নির্মাণ করা হয়েছে। এ পh©ন্ত প্রায় ১৭৪২৭.৪৮ কি.মি. ভূ-গর্ভস্থ পাইপ লাইন নির্মাণ ও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এর ফলে প্রায় ৩০ শতাংশ ভূ-গর্ভস্থ পানির অপচয় রোধ, K…wl Rwgi mvkÖqmn ‡mP GjvKv m¤úªmviY Kiv n‡q‡Q|
সেচকাজে ভূ-গর্ভস্থ পানির উপর চাপ কমানোর জন্য ভূ-পরিস্থ পানির ব্যবহারঃ
সংস্কারের অভাবে নদী, খাল, বিল ও অন্যান্য জলাশয়ের পানি ধারণ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় অত্র অঞ্চলের কৃষি কাজ মূলত ভূ-গর্ভস্থ পানির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এ অবস্থা হতে উত্তরনের জন্য বিএমডিএ বর্তমানে সেচকাজে ভূ-পরিস্থ পানি ব্যবহারের উপর ব্যাপক কাh©¨ক্রম গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে মোট ৫৫৫৩টি পুকুর, ২৬৫৮.৮২ কি.মি. খাল এবং বেশ কিছু বড় দিঘী খনন করা হয়েছে। খননকৃত খালে পানি সংরক্ষনের জন্য ৮০১টি ক্রসড্যাম নির্মাণ করা হয়েছে। রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলার বারনই নদীতে একটি রাবারড্যাম নির্মাণ করা হয়েছে। রাবারড্যাম নির্মাণের ফলে আশেপাশের প্রায় ২০টি খালে পানি সংরক্ষণ করে প্রায় ৫০০০ হেক্টর জমিতে সেচ প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে। সেচ কাh©ক্রমে নদীর পানি ব্যবহারের লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষের অধিক্ষেত্রে পদ্মা, মহানন্দা ও আত্রাই নদীর বিভিন্ন স্থানে মোট ১৫টি পন্টুন স্থাপনপূর্বক পাম্পের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী খালে পানি স্থানান্তর করে ডাবল লিফ্টিং পদ্ধতিতে বছর ব্যাপি সেচের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। উক্ত সেচ কাh©¨ক্রম বাস্তবায়নের জন্য খননকৃত খাল, পুকুর, দীঘি ও নদীর পাড়ে ১০৭৯টি এলএলপি স্থাপন করা হয়েছে। বিদ্যুতের উপর চাপ কমানোর লক্ষ্যে সেচ পাম্পে সৌরশক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ পh©ন্ত বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ৫০১টি সেচযন্ত্রে সোলার প্যানেল স্থাপন করে প্রায় ৭৫১৫ কিলোওয়াট সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার করে সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। সেচকাজে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহার করে প্রায় ১.২৫ লক্ষ হেক্টর জমিতে সম্পুরক সেচ প্রদান করা হয়েছে এবং প্রায় ৫.৪০ লক্ষ মেট্রিক টন ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে।
পাতকূয়া খনন ও ব্যবহারঃ
উঁচু বরেন্দ্র ভূমির যে সমস্ত এলাকায় ভূ-গর্ভস্থ পানির উৎস এ্যাকুইফার এবং ভূ-উপরিস্থ পানির উৎস কোনোটাই পাওয়া যায় না। খাবার পানির তীব্র সংকট, গৃহস্থালীর কাজসহ শাক সব্জির আবাদ করাও সম্ভব হয় না। সেই সমস্ত এলাকায় লাগসই প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাতকুয়া খনন করা হচ্ছে। ফানেল আকৃতির কাঠামোতে সোলার প্যানেল স্থাপন করে বৃষ্টির পানি পাতকুয়াতে সংগ্রহপূর্বক সোলার পাম্পের মাধ্যমে সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এর ফলে পাতকুয়ার অনাবাদী জমিতে শাক সব্জিসহ বিভিন্ন ধরণের কম পানি ব্যবহারকারী অন্যান্য ফসলের (আলু, বেগুন, টমেটো, ছোলা, লাউ, কুমড়া, ভুট্টা ইত্যাদি) চাষাবাদ করা হয়। পাশাপাশি খাবার পানি, গৃহস্থালী ও নানা কাজে এ পানি ব্যবহার করে আসছে। এ পর্যন্ত ৬৭০টি পাতকূয়া স্থাপনপূর্বক প্রায় ১৬৬০ কিলোওয়াট সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার করে প্রায় ২১২০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করা হচ্ছে।
জলাবদ্ধ জমির জলাবদ্ধতা দূরিকরণ ও সেচ উপযোগীকরণঃ
কর্তৃপক্ষের অধিক্ষেত্রে বেশ কিছু জমিতে বর্ষার পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে ঐ সমস্ত জমিতে চাষাবাদ করা সম্ভব হয়না। কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জলাবদ্ধ জমির পানি পাইপ লাইনের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী নদী ও খালে প্রবেশ করিয়ে তা সেচকাজে ব্যবহারের উপযোগী করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়াও জলাবদ্ধ জমিতে সেচ প্রদানের মাধ্যমে ফসল উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। এ পর্যন্ত সর্বমোট প্রায় ১৩০৫৭ হেক্টর জমির জলাবদ্ধতা নিরসনপূর্বক চাষাবাদ করে প্রায় ৭১৫০০ মেট্রিক টন ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে।
গ্রামীণ সংযোগ সড়ক নির্মাণ ও রক্ষনাবেক্ষণঃ
কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বরেন্দ্র এলাকায় 1144 কি.মি. গ্রামীণ পাকা সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে অত্র এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রভুত উন্নতি সাধিত হওয়ায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল যেমন সহজে ঘরে তুলতে পারছেন। তেমনি ফসল বাজারজাতকরণের মাধ্যমে প্রকৃত নগদ মূল্য প্রাপ্তিও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া নির্মিত সড়কের পাশে বিভিন্ন ধরনের শিল্প কারখানা গড়ে উঠায় সংশ্লিষ্ট এলাকার জনসাধারণের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
গভীর নলকূপ হতে খাবার পানি সরবরাহঃ
বরেন্দ্র অঞ্চলে খাবার পানির অত্যন্ত দূষ্প্রাপ্যতা রয়েছে। এলাকার জনগণ পূর্বে পুকুর, নদী-নালা, খাল-বিলের পানি খাবারসহ গৃহস্থালীর নানা কাজে ব্যবহার করতো। এতে করে অনেকেই বিভিন্ন ধরণের পানি বাহিত রোগে আক্রান্ত হতো। বিএমডিএ’র গভীর নলকূপ চালু হলে জনগণ গভীর নলকূপ থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতো। এ প্রেক্ষিতে জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষাসহ পানীয় জলের সংকট নিরসনে গ্রামের সন্নিকটবর্তী গভীর নলকূপের সাথে একটি 2500 লি. ধারণক্ষমতার ট্যাংক নির্মান করে পাইপের মাধ্যমে গ্রামে গ্রামে সুপেয় পানি সরবরাহ করা হয়। এখন ch©šÍ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে 15৯২ টি খাবার পানি সরবরাহ স্থাপনা নির্মান করে প্রায় 3 লক্ষ পরিবার নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বৃক্ষ রোপণঃ
মরুপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলের পরিবেশ উন্নয়ন ও মরুময়তা রোধ তথা প্রাকৃতিক ভারসাম্যতা আনায়নের লক্ষ্যে রাস্তার ধারে, পুকুর পারে খালের পাড়ে ও অন্যান্য সরকারী খাস জায়গায় বৃক্ষরোপন করা হয়ে থাকে। কর্তৃপক্ষ কর্তৃক এ পর্যন্ত প্রায় 2.৭১ কোটি বৃক্ষ রোপন করা হয়েছে।
বীজ উৎপাদন ও সরবরাহঃ
উন্নত বীজ মানেই অধিক ফলন। অর্থাৎ ভালো ফসলের জন্য চাই ভালো বীজ। সময়মত ও মানসম্মত বীজের অভাবে বরেন্দ্র এলাকার কৃষক একসময় উৎপাদনে ক্ষতিগ্রস্থ হতো। বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষ এখন চুক্তিবদ্ধ কৃষকের মাধ্যমে মানসম্মত বীজ উৎপাদন করে কৃষকের মাধ্যমে সরবরাহ করছে ফলে কৃষক উপকৃত হচ্ছে এবং ফসল উৎপাদন ভালো হচ্ছে। এ ch©šÍ প্রায় ৮৫00 মে. টন বীজ উৎপাদন করে কৃষকগণের সাথে সরবরাহ করা হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রতি বছর ৫00 মে. টন বীজ উৎপাদন করে কৃষকদেরকে সরবরাহ করা হচ্ছে।
অপ্রচলিত ফলের চারা ও ফসলের বীজ সরবরাহ এবং প্রদর্শণী খামার স্থাপনঃ
অপ্রচলিত উচ্চমূল্য ৩৭১৮০০টি ফলের চারা রোপণ ও ৪০৮০ কেজি ফসলের বীজ সরবরাহ করে বরেন্দ্র এলাকার কৃষকদেরকে অপ্রচলিত উচ্চমূল্য ফল ও ফসলের বানিজ্যিক চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এর ফলে কৃষকের আয় বহুগুন বৃদ্ধি পাবে, ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং সার্বিক পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে। এছাড়া কৃষকদেরকে অপ্রচলিত উচ্চমূল্য ফল ও ফসল চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে চিয়াসীড, মিষ্টিভুট্টা, জব, চীনাবাদাম ইত্যাদি মাঠ ফসলের ৩০টি; আলুবখারা, তেজপাতা ইত্যাদি মসলা জাতীয় ফসলের ১২টি; বেভারেজ জাতীয় ফসল কফির ৪টি এবং হলুদ বারহী খেজুর, লংগান, পার্সিমন, এভোক্যাডো, তাইওয়ানী আম (গ্রীন ও রেড), ড্রাগন ইত্যাদি ফলের ৪১টি এবং ইজীপশিয়ান ডুমুর, বেল ইত্যাদি ঔষধী ফসলের ২টি মোট ৮৯টি প্রদর্শণী খামার স্থাপন করা হয়েছে।
কৃষক প্রশিক্ষণঃ
আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার উৎপাদন বৃদ্ধি ও দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার ও চাষাবাদের লক্ষ্যে এ পর্যন্ত প্রায় ১৫৮৩০২ জন কৃষককে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
জনবলঃ
কর্মরত জনবল | অনিয়মিত শ্রমিক (মাষ্টার রোল) | আউট সোর্সিং | মোট জনবল |
১ম শ্রেণী- ১১৯ জন (প্রেশনে ২ জন) | নিজস্ব: ৫৩৫ জন+ প্রকল্প: ৮ জন মোট: ৫৪৩ জন | ২৭ জন | ১৩০৯ জন |
২য় শ্রেণী- ১৭৩ জন | |||
৩য় শ্রেণী- ৩৮৯ জন | |||
৪র্থ শ্রেণী- ৫৮ জন | |||
সর্বমোট= ৭৩৯ জন | ৫৪৩ জন | ২৭ জন | ১৩০৯ জন |
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত কোন জনবল কাঠামো নেই। ১৯১১ জনের সমন্বয়ে একটি জনবল কাঠামো প্রস্তুত করা হয়েছে। বর্তমানে কৃষি মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে জনবল কাঠামোটির যাচাই বাছায়ের কাজ চলমান রয়েছে। কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করার লক্ষ্যে জনবল কাঠামোটি জরুরী ভিত্তিতে অনুমোদন হওয়া প্রয়োজন।